নাগরিকদের মধ্যে ২২ ধরণের সেবা সম্বলিত উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে গত সোমবার। শুরুতেই ঢাকার উত্তরা ও রমনা থানায় এবং কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ার ছড়ায় বিতরণ করা হচ্ছে স্মার্ট কার্ড। বিতরণের শুরুর দিকে কিছুটা অব্যবস্থাপনা হলেও বেশিরভাগ মানুষ এই কার্ড হাতে পেয়ে আনন্দিত। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্ট কার্ড হস্তান্তর করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। চোখের স্ক্যানিং এবং দশ আঙুলের ছাপ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট কার্ড গ্রহণের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেন উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র। স্মার্ট কার্ড ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দিয়ে শুরু হয় কার্ড বিতরণ। এরপর একে একে অন্য জাতীয় ক্রিকেটারদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় এই কার্ড।

নিঃসন্দেহে স্মার্ট কার্ড একটি আধুনিক ও যুগান্তকারী উদ্যোগ এবং জনগণ এ থেকে উপকৃত হবে। প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক জঙ্গি সংকট মোকাবেলায় এই কার্ডের উপযোগিতা ও প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। সার্বিকভাবে স্মার্ট কার্ড একটি বিরাট অর্জন বিভিন্ন দিক বিবেচনায়।

এই সংক্ষিপ্ত লেখার পেছনের কারণটি অবশ্য ভিন্ন। একটি বিষয় বেশ কিছুদিন যাবত আমাদের নজরে পড়ছে। বাংলাদেশের যেকোনো সাফল্য উদযাপনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলটিকে সবসময় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। আমি বা আমরা সবাই টাইগারদের ভক্ত। তাদের সম্মান বৃদ্ধিতে আমাদের ভালো ছাড়া মন্দ লাগবে না। কারণ বাংলাদেশের সম্মান বা এই দেশটির পতাকা সারা বিশ্বে সফলভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে ক্রিকেট দলের ভূমিকা অসামান্য।

প্রশ্নটি হচ্ছে স্মার্ট কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্তদের তালিকায় শুধু ক্রিকেট কেন? অন্য স্পোর্টসস্টার নেই কেন? যতদূর জানি, অন্য কোনো শ্রেণী পেশার বিখ্যাত মানুষদেরকেও সেই অনুষ্ঠানে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়নি। আবারও বলছি, কেন? ধরুন মাশরাফি বিন মর্তুজা আমাদের সবার হিরো। কিন্তু এ কথাও তো ঠিক দ্বাদশ এসএ গেমসে দারুণ পারফর্ম করে ভারত্তোলনে স্বর্ণ জেতেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তিনিও তো টাইগার আর আমাদের হিরো। ওই অনুষ্ঠানে মাবিয়াকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হলে চিত্রটি কি আরও সুন্দর হতো না? সাঁতারে স্বর্ণ এনে দিয়েছিলেন মাহফুজা খাতুন এসএ গেমসে। তিনি কি হিরো নন? তিনি কি টাইগার নন? গলফার সিদ্দিকুর রহমান যেমন বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, ফুটবলার মামুনুল বা হকির জিমি- কেউ তো কারও চেয়ে কম নন! এভাবে আরও অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন যারা বাংলাদেশের গর্ব। যারা প্রত্যেকেই এক একজন টাইগার।

পরিশেষে বলছি, লাল সবুজের বাংলাদেশে ক্রিকেট আমাদের বিরাট গৌরবের জায়গা। তাই বলে অন্য খেলোয়াড়েরা কি সারাটা জীবন সুযোগ-সুবিধা আর সম্মানের বাইরে থেকে যাবে? সব শ্রেণীপেশার মানুষদের এমন অনুষ্ঠানে যুক্ত করার পাশাপাশি অন্য খেলার নায়কদেরকেও এরকম বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সম্মানিত করার মাধ্যমে আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের সামগ্রিক সাফল্যের পেছনের অগ্রপথিকদের কথা উঠে আসবে। গোটা বাংলাদেশের সাফল্য মানে শুধু ক্রিকেট নয়; বাংলাদেশ মানে অনেকগুলো ক্ষেত্রের অনেকগুলো মানুষ যাদের অবদানে পুরো দেশটির চিত্রই আজ পাল্টে গেছে।

স্মার্ট কার্ড এর যাত্রা শুভ আর সফল হোক।

Advertisements