কী আশ্চর্যের বিষয়। এ ধরণের কাজ আসলে কবিতা না হলেও, আমার কাছে কেন জানি ‘কবিতা’ বলতেই ইচ্ছে হচ্ছে এই লেখাটিকে। 

বানিয়াজুড়ির খালের পাশে
ওই যে লম্বা বাঁশঝাড়
হাশিম দিতো লাফ যেখান থেকে
একদম এক ডুবে থাকতো কাদাপানিতেই
আওয়াজ হতো জোরে-‘ঝপ’-
ঠিক এক মাত্রায়
তীরের মতো নিখুঁত
নির্ভুল ঝাঁপ৷
তালিয়া তালিয়া! আরো জোরে, আরো জোরে-

মহানায়কের মহাডুবের প্রতীক্ষা, উলঙ্গ দর্শকের নখগুলো মুখে তাই
পূবপাড়ার শম্ভু ভাবে, ‘আমার বুকে বাঘ থাকে না’৷
চিন্তায়, লজ্জায়, অভিমানে, ক্লেশে
গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায় শেষে
ঝোপ খুঁজে শিরশিরে
ভয় কাটায়
তিরস্কার-ভীরু
শম্ভু বিলাই
ভয় কাটায় অবশেষে৷
দীর্ঘক্ষণ দম আটকে ফুস করে হাশিম ভেসে ওঠে
পানির ওপরে-
নাকে তার জলধারা, রক্তবর্ণ চোখ, বাদামি-কালো শক্ত পেশী
থু’করে একদলা
পানিতেই সে ফেলে৷
দু’হাত উঁচু করে শুভেচ্ছা গ্রহণ পরে
এঁটেল মাটিতে সে বসে৷

চোখ খোঁজে প্রতিযোগী
চিতা, হায়না আর হরিণ আছে কি?
সিংহ-রাজা ইদ্রিস একদম ওপরে এখন
বাঘের সাথে চোখে চোখ এখন
গাল বেয়ে ঘাম, ভুরু আর কপাল কুঁচকে
শা করে দিলো ঝাঁপ-
নিস্তব্ধতা, অপলক ডজন ডজন চোখ
দম আটকে বস্ত্রহীন দামাল-দল-

এইবার ভেসে ওঠে বনের রাজা৷
বুকটা তার ফেটে গেছে,
ভাজা ভাজা তীব্র কষ্টে ইদ্রিস গোঙায়৷
ধরাধরি করে পাড়ে তোলা হয় সিংহকে;
এঁটেল মাটিতে হাশিমের পাশে, কোনোমতে শুয়ে পড়ে সে৷
দাঁতে দাঁত কামড়ে
শরীর এলিয়ে দেয় এঁটেল মাটিতে৷
পিঠ চাপড়ে সিংহকে বশে আনে বাঘ,
‘কেশর কেটে এইবার বন থেকে ভাগ’

‘শাবাশ শাবাশ’ ধ্বনি মুখরিত করে
কালিগঙ্গার খাল
জাবড়া থেকে তরা, এই বেলা
খরস্রোতা জলে
ছড়ায়ে পড়ে
হাশিমের নাম,
ইদ্রিসের গ্লানি,
আর, শম্ভুর গরম নোনতা পানি৷

 

Advertisements