বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল) শুরু হয়েছে গতকাল। মাঠে গড়ায়নি কোন ম্যাচ এখন পর্যন্ত। বৃষ্টিভেজা ঢাকায় ফাঁকা মাঠ মিরপুরে। এরই ভেতর একটি সংবাদ নজরে এসেছে আমাদের। বিপিএল শুরুর দিনে ডিআরউ (ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি)-এর কোয়ার্টার ফাইনালের পুরস্কার তুলে দিতে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের সম্ভবত উজ্জ্বলতম তারকাদের একজন- মোহাম্মদ আশরাফুল। বিপিএল কেলেঙ্কারির নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে গত আগস্টে মাঠে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক। আপাতত বিপিএল-এ নিষিদ্ধ থাকলেও জাতীয় লীগে খেলা শুরু করেছেন। ২০১৩ সালের পর আবারও মাঠে আশরাফুল। কিন্তু নীতি-নৈতিকতার প্রশ্নে আশরাফুলের মতো এমন প্রতিভাবান খেলোয়াড়কে সামলাতে হয়েছে বড় ধাক্কা। কঠিন সময় পার করে এসেছেন গেল ক’বছর। অর্থ, সম্মান, দেশসেরা ব্যাটসম্যান হওয়ার সম্ভাবনা সবটাই ছিল তার ভেতর, কিন্তু তাকে যে দিতে হচ্ছে ভুলের মাশুল। পা হড়কালে যে পরিণতি হয় আশরাফুল হয়তো তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। নইলে শৌখিন ক্রিকেটে তাও আবার বিপিএল শুরুর দিনে আশরাফুলকেই কেন আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে আসতে হবে ডিআরইউ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে পুরস্কার দিতে? কাকতালীয় হলেও ঘটনাটা ঘটেছে। নিয়তির পরিহাস হয়তো এরকমই। মেধাবী এই ক্রিকেটার তার বাইরে নন। অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান আশরাফুল নিশ্চয়ই তাকিয়ে আছেন ভবিষ্যতের দিকে। কিছুদিন আগে আশরাফুল বলেছিলেন, আরো দশ বছর ক্রিকেট খেলতে চান তিনি। জাতীয় লীগের পর নিশ্চয়ই ক্লাব ক্রিকেট খেলতে পারবেন। হয়তো সামনে বিপিএল খেলতেও দেখা যাবে তাকে। এভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাকে হয়তো আমরা দেখতে পারবো। এরকম আশা গোটা বাংলাদেশের, এরকম স্বপ্ন সবার। পুরনো ঝলসানো ফর্মে এক নতুন আশরাফুলকে দেখতে পাক বাংলাদেশ, সেই শুভকামনা তো থাকছেই। তবে, সকল খেলোয়াড়কেই আশরাফুলের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। সব মানুষেরও তাই। লোভ করলে যে পাপ তার পরিণতি কী হয় সেটা নিশ্চয়ই সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করতে পেরেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/৫ নভেম্বর, ২০১৬

Advertisements