বিশ্ব জুড়েই এখন তরুণদের জয়জয়কার। তাদের নিয়ে বিশ্ব নীতি-নির্ধারকদের চিন্তা-ভাবনার জায়গাটা এখন অনেক বিস্তৃত। কারণ ভবিষ্যত তাদের হাতেই। বাংলাদেশের তরুণরাও এগিয়ে এসেছে এবং দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে- শিক্ষা, প্রযুক্তি, ক্রীড়াসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই। শুধু দেশে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পড়াশোনা আর কাজের পাশাপাশি বিনোদনের প্রয়োজন আছে। আমাদের তরুণদের ভালোলাগার বা বিনোদনের বড় একটি জায়গা এখন ক্রিকেট। যদিও এই তরুণদের স্মার্টফোন জেনারেশন বলা হয়ে থাকে। তরুণরা ক্রিকেটকে প্রচন্ড ভালোবাসে এবং দেশের ক্রিকেটের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ও আস্থা আছে। তাদের কাছে জনপ্রিয় কে বা কারা জানতে চাইলে এক নিমিষে বলে দেয় বাংলাদেশের প্রিয় তারকার তালিকায় অন্তত পাঁচজন ক্রিকেটার আছেন। বিপিএল-এর আয়োজন এবং টুর্নামেন্ট নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে বিভিন্ন মন্তব্য দেখা যায় এবং বিভিন্ন খবরও প্রকাশিত হয়েছে ইতোমধ্যে এবারের বিপিএল আয়োজন নিয়ে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বিপিএলের অন্যরকম এক চিত্র। বিনোদনের জায়গায় তরুণরা এবারের বিপিএলকে কীভাবে স্থান দিচ্ছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে বেশিরভাগই বলছেন তাদের দৃষ্টিতে এবারের বিপিএল একধরণের গোজামিল মনে হয়েছে। তারকা খেলোয়াড় সেরকম নেই বললেই চলে। বিদেশ থেকে আসা খেলোয়াড়দের কথাই তারা বলতে চেয়েছেন। আর সবচেয়ে বড় অভিযোগ দর্শক কম। কেন মাঠে দর্শক কম? এমন প্রশ্ন অনেকেই করেছেন এবং এর পেছনে অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেছেন তরুণ ভক্তরা। টিকেট না পাওয়া আসলে অর্থের অভাবে ঘটছে এমনটা নয়। এখানে একটা কারসাজি আছে। দেখা যাচ্ছে শুধু গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডে কিছু মানুষ আনন্দ করছে আর পুরো গ্যালারি শুক্রবার বাদে পড়ে থাকছে ফাঁকা। শনিবারে হয়তো কিছুটা ভরছে। বিষয়টা ঠিক আমাদের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না। একটা ইতিবাচক দিক হয়তো এরকম হতে পারে, যে দেশের মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি কর্মব্যস্ত। তাই সেভাবে সময় দিতে পারছে না ছুটির দিনগুলো ছাড়া। তাই বলে এরকম দৈন্যদশা তাও ক্রিকেট মাঠে এটা ভাবতে কিছুটা কষ্টই হয়। অনেকেই বলেছেন, টিকেট দর্শকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। আসলে দর্শক এই পুরো বিষয়টার সাথে যুক্ত হতে পারছে না। এর বড় একটা অংশ হলো তরুণরা। তারা হয়তো ঘরে বসে উপভোগ করছে খেলাটি। কারণ টিকেট পাওয়ার বিড়ম্বনায় মাঠে যেতে চাইছেন না তারা। এভাবে আরও অনেকেই পারছেন না বা যেতে চাইছেন না মাঠে। তাই বিপিএলকে জনপ্রিয় করতে উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সৃজনশীল হতে হবে। অবশ্যই এই টুর্নামেন্টটিকে আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে মাঠে দর্শক নিয়ে আসতে হবে। এর কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে ভাবতে হবে তাদেরকেই। এ ছাড়া এবারের বিপিএল-এ সাম্প্রতিক সময়ে মাশরাফির সাথে মালিক-কর্মকর্তাদের সাথে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। অধিনায়ক নিয়ন্ত্রিত দল না মালিক নিয়ন্ত্রিত খেলোয়াড় সে বিষয়েও আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। তবে এর ভেতর আশার কথা মুশফিক, নাফিস ফর্মে ফিরেছেন। মেহেদী মারুফের মতো ব্যাটসম্যানের খেলা দেখতে পারছি আমরা। মিরাজ, সৈকত দুর্দান্ত খেলছেন। আর সাব্বির রহমান বিপিএল এর ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর করে রেকর্ড গড়েছেন রাজশাহী কিংসের হয়ে। তরুণদের আইকন এই সব ক্রিকেটার। এতে সন্দেহ নেই দর্শক আর মাঠ এই দু’য়ের সমন্বয় হলে আরও উপভোগ্য হয়ে উঠবে বিপিএল। আমরা মনেকরি উদ্যোক্তারা যদি সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেন, তাহলে জাতীয় দলের খেলা দেখতে যেভাবে দর্শক যেভাবে ছুটে যান স্টেডিয়ামে, ঠিক তেমনিভাবে বিপিএল-এ আমরা তাদেরকে নিয়মিতভাবেই দেখতে পাবো।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/১৫ নভেম্বর, ২০১৬

Advertisements