জীবনে অনেক কম দেখেছি। তাই মনে করি, কম দেখাই উত্তম। যত কম দেখবো তাই মঙ্গলজনক। কম দেখে মরে যাওয়ায় কোন দোষ নেই।  

প্রাগৈতিহাসিক সময়, বা তারও আগে কখনো।
সমুদ্র, ভূমি, নদী, আকাশ,
সর্বনাশা দখলে।
দখলদারিত্বে
ছন্দ, শব্দ, ভাষা, আচরণ,
খাল-বিল, অলি-গলি, মেঠো পথ
বিকৃত, উদ্ভট-
অপরিচ্ছন্ন, বিষে বিষাক্ত
হয়ে গেছে।
আদি থেকে আজ
সবকিছু ওদের।
কন্ঠে জোর নেই, উচ্চারণের মলিনতা যাদের,
শুদ্ধ যারা, তাদের পেছনে সভ্যতার কুকুর।
লকলকে জিভ, সরু
ভীরু প্রজাতির পেছনে ঘেউ ঘেউ।
ওরা লুটেরা
শত-সহস্র সহজ আত্মার দলকে
ক্ষত-বিক্ষত করেছে।
ওরা দস্যু।
বুক ভেদ করে তারকাটা আলবৎ ওরাই মেরেছে।
শহুরে মানুষ যদি এখনো যায় ওদের উঠোনে,
মুখে তুলে দেবে ওরা অগ্রহায়ণের পিঠা-পুলি।
চোখের কোণে বিন্দু জল নেই, অপ্রাপ্তি নেই।
হাসি আছে মুখে অথচ, আছে লাল দগদগে চোখে
সভ্যতার ক্ষত!
একটুও ক্ষুধা নেই ওদের।
নিরীহ মানুষ পিষে দিয়েছে ওরা।
মেহনতি গরিবের সিন্দুকে যে ফুল থাকে,
পোকা ধরেছে ওই পবিত্র অন্দরে।
তামাম দুনিয়া গর্জন শোনেনি ওদের।
শোনেনি হুংকার ।
পড়েনি ইশতাহার ।
দারোগা, বন্দুক, কামান, উজির, উকিল কী উপায়ে
মেরামত করে মন?
গাছের ডালে কাকাতুয়াটা বসে নেই আর।
বেহালার সুরে নাচে না বাতাস।
সভ্যতার একচ্ছত্র সিংহাসন
সমাসীন সে আসনে সভ্যতা এখন।

Advertisements