মঙ্গলবার ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাব শাপেকোয়েন্সের ফুটবলারসহ কলম্বিয়ার মেডিলিনে বলিভিয়ান চার্টার লামিয়ার একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো বিশ্বে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আতলেতিকো নাসিওনালের বিপক্ষে কোপা সুডামেরিকার ফাইনাল খেলতে কলম্বিয়ায় যাচ্ছিলেন তারা। দ্য গার্ডিয়ানের ওয়েবসাইটে একটি ভিডিওতে খেলোয়াড়দের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় চেক ইনে বিমানে ওঠার ঠিক আগে। এমন কি তাদের বিমানের ভেতরের ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছি আমরা। কে জানত তাদের এই যাত্রাই হবে শেষ যাত্রা? যদিও তিনজন ফুটবলার বেঁচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তথ্য, প্রযুক্তি, প্রকৌশলের উৎকর্ষের এই সময়ে এরকম ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাদায়ক ও হতাশার। ব্রাজিলের সান্তা কাতারিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শাপেকো শহরের ছোট এই ক্লাবটি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ভালো খেলছিলো। কিন্তু কী এক ভয়ংকর পরিণতি মেনে নিতে হচ্ছে ব্রাজিলসহ পুরো ফুটবল দুনিয়াকে। হয়তো এই দলের যে কোন খেলোয়াড়ই বিশ্ব ফুটবলে বড় তারকা হতে পারতো। খেলোয়াড় বা ক্রীড়া দল নিয়ে বিমান দুর্ঘটনা আমাদের কাছে নতুন নয়। ১৯৪৮ সালে প্যারিস থেকে লন্ডন যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চেকোস্লাভাকিয়ার কয়েকজন আইস হকি খেলোয়াড়। ১৯৯৩ সালে বিশ্ববাসী জেনেছে বিমান দুর্ঘটনায় জাম্বিয়ার জাতীয় ফুটবল দলের সব সদস্যের মৃত্যুর খবর। এ ঘটনাটিই ছিলো ক্রীড়া ক্ষেত্রে সবচেয়ে মর্মান্তিক। আজ পর্যন্তও দেশটি তাদের ফুটবল দলটিকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারেনি। যেকারণে ফুটবল বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার খুব কাছাকাছি গিয়েও সফল হতে পারেনি তারা। বিষয়টি হচ্ছে, গত কয়েক বছর যাবত আমরা লক্ষ্য করেছি সারা বিশ্বেই বিমান দুর্ঘটনা ক্রমে বেড়েই চলেছে। বিমান গ্রাউন্ডে থাকা অবস্থায় তার জরুরি চেকগুলো পাইলট করেন। নিরাপদ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল তিনি উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বিমান পরিচালনায় এতো আধুনিক এবং কম্পিউটারাইজড ফ্লাইং সিস্টেম থাকার পরও রাডার থেকে বিমান হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখেছি আমরা। আরো দেখেছি জ্বালানি ঠিক আছে দেখার পরও কীভাবে তেল ফুরিয়ে যায় আকাশে। আজকের বিমান দুর্ঘটনায় বৈদ্যুতিক সংকট প্রমাণিত হয়েছে। এর আগে দেখেছি মহাসাগরে আস্ত একটি প্লেন হারিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্তও তা খুঁজে না পাওয়ার মতো ব্যর্থতা। আমরা বিস্মিত হয়েছি। ভেবেছি কি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিকটাত্মীয়, বন্ধু,পরিজন সময় পার করেছেন। যদিও এর পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি। ব্রাজিলের শাপেকো শহরটি এখন শোকে নিস্তব্ধ। সেখানকার মেয়র এই দিনটিকে ট্র্যাজেডি হিসেবে আখ্যা দিয়ে  বলেছেন, নিশ্চয়ই ভালো আছেন শাপেকোয়েন্সের ফুটবলাররা। আর সবাইকে তিনি বলেছেন তাদের জন্য প্রার্থনা করতে। আমাদেরও প্রার্থনা রইলো শাপেকোয়েন্সের ফুটবলার, সেই বিমানে থাকা দলের অন্যান্য কর্মকর্তা, সাংবাদিক, ডেলিগেট এবং দুর্ঘটনার শিকার সকলের জন্য। আমরা চাই বিশ্বের আধুনিকতম বিমান পরিবহনে এমন এক চুলচেরা মনিটরিং ব্যবস্থা আসুক যাতে আকাশে উড়ার আগে যাত্রীরা নিশ্চিত থাকতে পারেন তাদের বহনকারী ফ্লাইট সম্পর্কে। যদিও দুর্ঘটনা দিনশেষে দুর্ঘটনাই। সেখানে ভাগ্যকে মেনে নিয়ে আমরা এটুকু অন্তত চাই, যেন ওই মনিটরিং ব্যবস্থা বিমান আরোহীদের স্বস্তি আর নিশ্চয়তা দেয় নিরাপদ ভ্রমণের।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/২৯ নভেম্বর, ২০১৬

Advertisements