সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় পর্নো সাইট। এর কারণ: এ ধরনের সাইট ব্যবহারকারীদের নাম প্রকাশে সরকারের পরিকল্পনা সংক্রান্ত সংবাদ এবং বিষয়টি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের দেয়া ফেসবুক পোস্ট। সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়, এ দেশে থেকে আন্তর্জাতিক পর্নো সাইটে প্রবেশকারীদের পরিচয় সরকার প্রকাশ করবে। এর পাশাপাশি সরকার দেশের ভেতরে পরিচালিত পর্নো সাইটগুলোও বন্ধ করে দেবে। তবে মঙ্গলবার সকালে তারানা হালিম তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে সংবাদটিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন। এ নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হতেও অনুরোধ করেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, কোন তালিকা তৈরি হচ্ছে না। এবং যেকোন ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। ওই পোস্টে তিনি আরও জানিয়েছেন, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট এখনো তার হাতে আসেনি। তারানা হালিমের এমন বক্তব্যে স্পষ্ট যে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেতন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। সেইসঙ্গে ব্যক্তির গোপনীয়তার বিষয়ে সরকার যে সচেতন রয়েছে, তা জানিয়েও সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে। তবে এ পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তা হলো সংবাদের নামে অসত্য ও ভূয়া সংবাদ প্রচার। বিশেষ করে অনলাইনের এ যুগে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। আমরা চাই কোন গুজব-ধারণা-ভুল ব্যাখ্যা-অসত্য তথ্য যেন সংবাদের মতো রূপ দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ না করা হয়। আমরা জানি, পর্নো সাইট নিয়ে সরকারের উদ্বেগের মূল কারণ তরুণ জনগোষ্ঠী। তবে এ গোষ্ঠীর ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এমন আরো অনেককিছুই সংবাদের মতো করে প্রকাশ করা হচ্ছে। এমনকি প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি দৈনিকের সাইটগুলো আধা পর্নো সাইটের মতো। তবে, তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন আরো অনেক ঘটনাও রয়েছে, যা শুধু পর্নো সাইট ভিজিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাই পর্নো সাইট নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওইসব ঘটনা এবং অনলাইনের নামে ভুয়া ও অসত্য বিষয়কে সংবাদ হিসেবে প্রকাশের বিষয় এবং নিউজ সাইটকে আধা পর্নো সাইটে পরিণত করার বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া যায় কিংবা কীভাবে এ প্রবণতা বন্ধ করা যায়, সে বিষয়েও সবপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। আর পর্নো সাইটের কারণে তরুণদের ওপর তার ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে সরকারকে যদি কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই হয় সেক্ষেত্রে পর্নো সাইট নিষিদ্ধ করা ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোন সমাধান দেখা যাচ্ছে না। তালিকা প্রকাশের মতো একটি কাজ হয়তোবা ছেলেমানুষিই হয়ে যাবে যদিও প্রতিমন্ত্রী তা অস্বীকার করেছেন। আমরা মনে করি, তরুণদের মনে অনেককিছুই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু তরুণ সমাজকে শুধু নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করাটাও অনুচিত।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/১৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

Advertisements