সাহিত্য চর্চা বড়ই কঠিন কাজ। আমাকে দিয়ে হয় না। হবেও না।

সরষে ক্ষেতে মায়ের কপাল রেখা
দিগন্ত কেটে গেছে কতো ক্রোশ আর মাইল।
বুক ভেদ করে ভালোবাসা গোধূলির দিকে।
সে ভাবে আর কাঁদে। ভাবার্থ বুঝি না আমি।
শৈশব কী বীভৎসতা! বুঝি না আমি মায়ের মৌনতা।
আইলের ওপর বসে আছে আমার মা।
নিঃসঙ্গতায় ভেবে যাই নিরন্তর। মা আমার চুপচাপ তাকিয়ে থাকে।
তার বিস্তীর্ণ কপালের মানচিত্রে এ ক্ষেত থেকে ও ক্ষেতে আমি ঘুরে বেড়াই। নিষ্পাপ, বিবর্ণ বাতাস খেলে চঞ্চলতার সাথে।
অদ্ভূত এক মা আমার।
তারকারাজিতে, আকাশে কোন মা থাকে না।
লোকের মিথ্যা কথায় একদম কান দেই না আমি।
মানুষের মিথ্যা। সভ্যতার মিথ্যা। প্রাচীন সে কৌশলে মজি না আমি। মায়ের কাছ থেকে
অ আ ক খ শিখিনি
রুপকথা শুনিনি।
মা আমার রাত জেগে সেলাই করে না।
আমার মগজে কোটি কোটি সেলাই এর ভেতরে থাকে মা।
ঘোড়ার পিঠে চেপে, তীব্র গতিতে ছুটি।
দুরন্ত ক্ষিপ্রতায় আমার থেকে সাবধানী হয়ে এগিয়ে যায়
আমাকে পেছনে না ফেলে। আমার মা।
ঘুম ভেঙে দেখি নগরের বিছানায় হাত-পা মেলা
শরীরে ঘোড়া চালনার প্রচন্ড ব্যাথা।
মায়ের মুখ দেখে আমি হাসি। মনের সবটুকু জুড়ে থাকে শুধু হাসি।
ইশকুলে যাবার সময় মাথার ওপর ছাতি ধরেনি,
আদর করে মুখে তুলে খাওয়ায় নি,
কী নিষ্ঠুর সে!
শাদা বকের দলে সবচেয়ে উঁচু বকটাকে আমার মা মনে হয়।
সবচেয়ে উঁচু পাহাড়, বড় নদী, উড়োজাহাজ, বড় ইমারত- সবকিছুকেই আমার মা মনে হয়।
অশ্রুসজল মা দেখিনি।
ওই শব্দের বুঝিনি ব্যাঞ্জনা।
শুধু উপমায় বুঝি কী করে গর্ভধারিণী?
স্বপ্নবাজ, বিদ্রোহী আর জেদী আমি
দামোদর সাঁতরেই চলেছি। মায়ের কাছে যেতে হবে।
ডাক না পেলেও এখনই মায়ের কাছে যেতে হবে।
আমি কাঁদি না, আমার মায়ের জন্য। আমি হাসি না।
আমি শুধু সাঁতরে চলি দামোদর নদী।

Advertisements