নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ছয় সদস্যের সার্চ কমিটির নাম মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর পর কমিটি গঠন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত এই সংবাদটি আজ দেশজুড়ে আলোচিত। নির্বাচন জনগণের একটি মৌলিক অধিকার এবং এই অধিকার বাস্তবায়নে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে রাষ্ট্রপতি আলোচনা করেছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ইস্যুতে ৩১টি রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক করেছেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর সকল প্রস্তাব তিনি শুনেছেন এবং এ বিষয়ে কার্যকরী একটি কমিশন গঠনের আশ্বাসও দিয়েছেন। বিএনপি ইসিকে শক্তিশালী করতে প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনীর প্রস্তাবসহ আরও কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে ইতোমধ্যে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে ইলেকট্রনিক ভোটিং পদ্ধতিকে। এছাড়াও আরও কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে রাষ্ট্রপতিকে। পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় পার্টি। আর অন্যান্য দলগুলোও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে। বঙ্গভবন নামের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিল। এবারে অপেক্ষার পালা শেষ। ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিলো, একই প্রক্রিয়া এবারও অনুসরণ করা হয়েছে। শুধু সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে কমিটিতে, যুক্ত হয়েছে নারী সদস্যও। কমিটিতে থাকছেন চবির উপ-উপাচার্য শিরিন আকতার। আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন ওই কমিটিতে শিরিন আকতারসহ আছেন নাগরিক সমাজ থেকে ঢাবি’র অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মাসুদ আহমেদ। গত কয়েক বছরে আমরা কমিশনকে শক্তিশালী করার সেরকম কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি। আমরা মনে করি, কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য একটি যথাযথ আইনি কাঠামো প্রয়োজন। সরকারের উচিত এই কমিশনকে সহায়তা করা। তবে সবার উপরে আমরা মনে করি রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের সদাচরণ একটি কমিশনকে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করে যেতে সহায়তা করবে সবচেয়ে বেশি। ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে যে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনপদ্ধতির চলমান সংস্কার অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা আছে, আমরা চাই তা কারও চাপে না পড়ে তার স্বকীয়তা নিয়ে কাজ করুক বলিষ্ঠতার সাথে। আর যদি সত্যি এই কমিশনটি তার স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করতে পারে তাহলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং স্বচ্ছ হবে। তার আগে দেখা যাক সার্চ কমিটি কাদের নাম সুপারিশ করে।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/২৫ জানুযারি, ২০১৭

Advertisements