৬ জানুয়ারি উত্তরায় ঘটেছিল এক ভয়াবহ ঘটনা। ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবীরকে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে প্রতিপক্ষ। পরে মারা যায় আদনান।মঙ্গলবার রাতে আদনান কবীর হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘বিগ বস’ গ্যাং-এর দলনেতাসহ আট জনকে আটক করেছে র‌্যাব। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন, বিগ বস গ্রুপের আটকরা নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। একজন ইজিবাইক চালক, একজন গার্মেন্টসে চাকরি করে, আর একজন সাউন্ড সিস্টেম ভাড়া দেয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, অন্যজনের চাকরি ট্রান্সপোর্টে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই গ্রুপের আটক সদস্যরা আদনান হত্যায় সম্পৃক্ত ছিল বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রযুক্তি আর আধুনিকতার এই যুগে, তরুণ বা উঠতি কিশোররা যেসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে তা আমাদের জন্য কী বার্তা বহন করে? নিশ্চয়ই আমরা বলছি না যে এসব নতুন প্রযুক্তি তাদের কোন মানুষকে হত্যা করতে শিখিয়েছে। কিন্তু, ক্ষমতা প্রদর্শনের বীজ যে ছোটদের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে সন্তর্পণে, সে কথা কী ভাবছি আমরা? আমাদের ভাবনা এবং চিন্তায় এখনও ঐশী নামের মেয়েটি যেমন রয়ে গেছে ঠিক তেমনি রয়ে গেছে ইয়াবা কীভাবে তার জীবনকে তছনছ করেছে তার প্রেক্ষাপট। আদনানের জীবন গিয়েছে কিন্তু তার পরিবার আর কখনো কি উঠে দাঁড়াতে পারবে সন্তান হারানোর পর্বতসম কষ্ট থেকে? আমরা গণমাধ্যমে জেনেছি, মডেল জ্যাকুলিন মিথিলার আত্মহত্যার খবরটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার উপস্থিতি তার একান্ত নিজস্ব ছিল। যেমন নিজস্ব ছিল তার পারিবারিক বিষয়গুলো। এই মেয়েটিও আত্মহননের পথ বেছে নিল। তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সে আগেই জানান দিয়েছিল, সে এরকম একটি কাজ করতে পারে। তার সেই স্ট্যাটাসগুলো পরিবারের কাছে কোন গুরুত্ব বহন করেনি। বিষয়টি বেশ হতাশাজনক কারণ অনেকে দেখলেও তার পরিবারের কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি। এর মানে বোঝাই যায় পরিবারের ভেতরে থেকেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে কিশোর থেকে তরুণ- অনেকেই। আমরা মনে করি তথ্য প্রযুক্তি কিশোর বয়স থেকে শুরু করে তরুণ তরুণীদের যেমন ভালো দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তেমনি এর বেশ কিছু খারাপ দিকও আমাদের সবারই কম বেশি জানা। স্থানীয়ভাবে যেসব কিশোর গ্যাং গড়ে উঠছে সেখানে প্রভাব প্রদর্শন একটা খেলার মতো হয়ে গেছে। যে খেলায় একজন কিশোরকে মেরে ফেলা হয়। আমরা মনে করি, পারিবারিক বন্ধনগুলো মজবুত এবং দৃঢ় থাকলে এসব ঘটনা হয়তো ঘটতো না। কারণ পরিবারের দৃঢ় অবস্থানে গড়ে উঠে একটি সুসংহত সমাজ এবং অবশ্যই আরও শক্তিশালী একটি রাষ্ট্র। দেশের আইন তার গতিতে কাজ করবেই, কিন্তু আইনগুলোর প্রয়োগের প্রয়োজন তখন পড়বে না যখন একটি পরিবার তার সন্তানকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে আলোকিত করতে পারবে। অপরাধ ও অপরাধীর বিচারও হবে নিশ্চয়ই। তবে তার আগে পারিবারিক সমর্থন এবং নির্দেশনার প্রয়োজন যাতে এমন সব দুঃসংবাদ গণমাধ্যমে সংবাদ না হয়ে ওঠে।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

Advertisements