বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে নতুন নির্বাচন কমিশনের পাঁচ সদস্যকে শপথ পড়িয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সংবিধানের সুরক্ষা, বাংলাদেশের প্রতি অনুগত থাকা- এরকম দৃঢ় ও বলিষ্ঠ প্রত্যয়গুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করার অঙ্গীকার করেছে কমিশন। এই প্রত্যয় মানার ক্ষেত্রে কোন দলের প্রতি বিশেষ আগ্রহ বা সমর্থন প্রদর্শনের সুযোগ নেই। আছে আগামী সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য করে তোলার বাধ্যবাধকতা। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম একজন নারী কমিশনার আছেন এই কমিশনে। এটি এক নতুন এবং ইতিবাচক মাত্রা যোগ করেছে কমিশন গঠনে। রাজনীতির অঙ্গনে নতুন ইসি নিয়ে আস্থা-অনাস্থা দুটোই রয়েছে। আস্থা থাকা-না-থাকার বিষয়টি স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য। মতের পক্ষে ও বিপক্ষে মত থাকে। এবং এটি গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার প্রকাশ বলে আমরা মনে করি। যার যার পক্ষে তার তার কিছু যুক্তি, কিছু অভিমান ও অভিযোগ এবং একইসাথে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি ও উচ্ছ্বাস রয়েছে। কে এম নূরুল হুদার নতুন কমিশন আওয়ামী লীগের আস্থা পেলেও বিএনপি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। জাতীয় পার্টি নতুন কমিশনকে স্বাগত জানালেও সিপিবি কাজ দেখে মন্তব্য করবে বলে জানিয়েছে। সার্চ কমিটি প্রস্তাবিত দশটি নাম থেকে গত সপ্তাহেই নতুন ইসির জন্য পাঁচজনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রেক্ষাপট থেকে আজকের দিন অবধি অপেক্ষা ছিলো পুরো জাতির। আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে জনমানুষও প্রশ্ন তোলে। তবে সেটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। নিজস্ব মতপ্রকাশের একটি বড় জায়গা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। আমরা এর আগে দেখেছি বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন বিরোধী দলগুলোর কাছে নির্বাচন কমিশন গঠন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। এই সামগ্রিক সংশয় ও সন্দেহ থেকে বের হওয়ার সময় এসেছে। আমাদের মনে রাখতে হবে নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেখানে মূলমন্ত্র রাষ্ট্রের নির্দেশ পালন করা, কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দলের নয়। আর সকল ক্ষমতার উৎস যখন জনগণ, তখন একটি গণতান্ত্রিক দেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ তার গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়ন করবে এমনটাই আশা করি আমরা সবাই। শপথ গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঠিক যেমনটি বলেছেন, সকল দলকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করতে চান, সে বিষয়ে আমরা আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, তার কোন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তিনি শুধুই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারের কোন প্রভাব থাকার সুযোগ নেই কমিশনের ওপর। তার এ বক্তব্য আমাদের ভরসা দেয় একটি রাষ্ট্রের নিজস্ব গতিতে চলার। আমাদের প্রত্যাশা সংবিধানের সকল নিয়ম অনুসরণ করেই যেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় পুরো বাংলাদেশ জুড়ে এবং প্রতিষ্ঠিত হয় জনগণের পরিপূর্ণ ভোটাধিকার। রাষ্ট্রের প্রতিটি অংশে প্রোথিত হোক সংবিধানের দৃঢ় শেকড় যেখানে থাকবে না কোন ব্যক্তি বা দলের বিন্দুমাত্র প্রভাব।

চ্যানেল আই অনলাইন/সম্পাদকীয়/১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

Advertisements